তিনটি কবিতা । অভিষেক দাস

অভিষেক দাস। একটা ভালো ছেলে, কবিতায় তার প্রতিফলন দেখি প্রতিনিয়ত। কাজ, লেখা, ব্যাবহার এ মুগ্ধ করেছে মুক্তাক্ষর কে। ওনার লেখা তিনটি কবিতা রইল। 


১,
এ যেন এক মৃত বসন্ত

অভিষেক দাস


যে বসন্তে লোহিত আবিরের রং ফিকে, 
যে বসতিতে বিষাদের সুর চারিদিকে 
এ বসন্তে রক্তিম পলাশ যেন ধূসর মলিন
এ নিঃসঙ্গ বসন্তে সবাই হয়ে যাচ্ছে বিলীন।

মৃত বসন্তে কোকিল কুহু কুহু সুরে ডাকেনি,
 নিশীথে পূর্ণিমার চাঁদ কেন যে আবেগ মেশায়নি?
অপ্রিয় হয়েও সাথে থেকো শাশ্বত বসন্ত আমার,
ফিকে আবিবের রঙে নতুন হোক জীবন আবার।
মৃত কবির মতোই কবিতার অপেক্ষমান বসন্ত মৃত,
ব্যাথাতুর চিত্তে কে দেবে হৃদয়ের লাভার অগ্নিতে ঘৃত।।



২,
এ কেমন দিন যাপন!

অভিষেক দাস


ধুম জ্বরের ঘোরে তুমি স্নেহময়ী মায়ের সম
কোমল হাতের জলপট্টির স্পর্শে আমি কর্মক্ষম।
প্যারাসিটামল গলায় যেতেই হঠাৎ তুমি নিরুদ্দেশ
"কখন  কোথাই হলে তুমি নিরুদ্দেশ!
খুঁজে পাই নাকো কেন!
বলো কোথায় তোমার আস্তানা,
কোথায় বিছানো তোমার কালো কেশ!
শ্যাওলা ধরা কলতলাতে নিয়ন আলোর আবছা রেশ।

প্রত্যুষে যেই ঘোর কাটে আর তাকিয়ে দেখি কার্নিশে,
পুবের আকাশ আঁচল খোলে রক্তাভ কোন বার্ণিশে।
ভাঙা পাঁচিল, গাছের কোটর, চড়াই দুটির আলাপ-রাগ, আর....
পড়ছে মনে কিভাবে যাপন গত রজনীর অন্ধকার ।।

চাঁদের পাহাড় মিলিয়ে আসে রূপকথারই মতো,  
ছড়িয়ে থাকে রাতের বাকি হিসাব-নিকাশ যতো
উষ্ণতারা ভয় পেয়ে যায় দুই পা খোঁজে বল,
নিশার শেষে নিজেকে বোঝাই, এবার বেরোই চল।

চোখে আগুন, মনে আগুন, মুখেই শুধু হাসি
ছোট্ট থেকেই অভিনয়টা ভীষণ ভালোবাসি।
রৌদ্র জ্বলে আমার ভেতর, বাইরে জোছনা শশী-
ক্লান্ত হলে একটুখানি নদীর কাছে বসি।

সে তটিনী আমার চোখে চোখ রেখে কয়- "একি?
"কদিন হলো শরীর খারাপ, ও আর এমন কি?"
মুখেই শুধু বলে দেওয়া যায়, চোখের সাগর দেখে
নদীই বোঝে তোমার পরে সত্যি রাখি ঢেকে।

তবেই বোঝো, তোমার থাকা কতটা দরকারি!
আজকে আবার জ্বর আসলে তোমায় পেতে পারি?
এ কেমন দিন যাপন হে অধিশ্বরী!



৩,
মিথ্যে সব মিথ্যে

অভিষেক দাস 


মা ছোটোবেলায় প্রদীপের তাপ 
বুকে দিয়ে বলেছিল-
ছেলে আমার দীর্ঘায়ু হবে! 
আমি খিলখিলিয়ে হেসেছিলাম।

একমনে শুয়ে থাকতে থাকতে ভাবি
কতোদিন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াইনি!
মাকড়সার জাল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে
এ যেন অসম এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

জানালা দিয়ে বাইরে চোখ যেতেই দেখি -
জামগাছের নিকটে যমদূত আর সুখপাখি,
আমার আয়ুরেখা নিয়ে লোফালুফি খেলছে।
ভাগ্যের পরিহাস দেখে উন্মাদের মত হেসে উঠি।

ডাক্তার বলেছিল সামান্য অসুখ পড়েছে ধরা,
মাঝে দু একটা ইঁদুর এসে কামড়ে যায় 
হয়তো বা বুঝে নিতে চায় জীবিত নাকি মরা
মৃত্যুর অন্তিম প্রহরের দিন গোনাও যে বড় দায়।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ